(একটি বিদেশী গল্পের ছায়া অবলম্বনে)
এম,আমিনূর রহমান।
সরফরাজ এখন কিছুকিছু বাংলা শিখে ফেলেছে।অনেক কথাই সে এখন বাংলায় বলতে পারে, একেবারেই বাংলা বলা ঠিক হবেনা বাংলা,উর্দু, ইংরেজী মিলিয়ে একটা জগাখিচুড়ী।কমলা তাকে বাংলা শেখায়।প্রতিটা কাজে,প্রতিটা পদক্ষেপে তাকে বাংলা ভাষা,বাংলাদেশের আচার-ব্যাবহার শেখাবার তার যেন প্রানান্ত চেষ্টা।এক মাসের কিছু কম-বেশী সময় হলো দু'জন একসাথে আছে,একে অপরের পরিপুরক।একজনকে ছাড়া অন্যজন যেন অস্তিত্বহীন।কমলা তাকের উপর থেকে রাইফেলটি বের করে,একটা ছেড়া গামছা দিয়ে অস্ত্রটি পরিস্কার করতে থাকে।মনে মনে ভাবে মানুষটি পাকিস্তানি সেনা হলেও মনটা ভীষন ভালো দু'এক দিন তার সাথে কেউ থাকলে তাকে ভালবেসে ফেলবে।তার প্রেমে পড়ে যাবে।কমলাও কি তাহলে সরফরাজ খানের প্রেমে পড়ে গেছে? কমলা মনে মনে লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে, হয়তোবা সে জানেনা।
দু'সপ্তাহ প্রায় কমলা সরফরাজের হাতকড়া খুলে দিয়েছে এখানে পালাতে পারবেনা,চারিদিকে উত্তাল সমুদ্র, দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি।যেদিকে তাকাও ঢেউ ছাড়া কিছু নেই।এতোদিন হয়ে গেল একটি নৌকারও দেখা পাওয়া গেলনা।বর্ষাকালে কেউ আসেনা এদিকটায় শুধু শীতের সময় এই দ্বীপে মাছ ধরে শুটকি করতে কিছু লোক আসে আবার বর্ষাকাল শুরুর আগেই পাততাড়ি গুটিয়ে ফেলে।এখানে তাদের ঘর এবং পরিত্যাক্ত ব্যাবহার্য জিনিষপত্র দেখে তাই মনে হয়।নৌকাডুবির পর যখন কমলার জ্ঞান ফিরলো সে দেখলো সরফরাজ তার চোখেমুখে জলের ঝাপটা দিচ্ছে।
হাবিলদার বেলাল ছিল তাদের দলের অধিনায়ক,মাঝির দায়িত্ব পালনকারি ছোকড়া আগরতলা ক্যাম্প থেকে ট্রেনিং শেষ করে মুক্তিযোদ্ধাদের এই দলে যোগ দিয়েছিল।নতুন এই ছেলেটির নাম মনে করতে পারলোনা কমলা।তাদের তিনজনের উপর দায়িত্ব ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে বন্ধি পাকিস্তানী সেনা সরফরাজ খানকে চট্টগ্রাম শহরে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন ক্যাম্পে পৌছে দেয়া।ক্যাম্পের অন্য সবার মতামত ছিল সাগরপাড়ে ঐ সেনাকে দাড় করিয়ে একটা গুলি খরচ করেই ল্যাঠা চুকে যেত, কিন্তু তা হলো না বেঁচে গেল সরফরাজ খান।মেজর রাহাতের সিদ্ধান্তের ফলে সন্ধার দিকে হাতিয়া দ্বীপ থেকে নৌকা ছাড়লো বন্দিকে নিয়ে তারা তিনজন।উদ্দশ্য চট্টগ্রাম।ঝড় শুরু হলো সম্ভবত শেষ রাতের দিকে তারপর আর কিছু মনে নেই তার।হাবিলদার বেলাল আর নতুন ছেলেটির আর কোন খোজ মেলেনি।সাগরে ডুবে মারা গেছে হয়তো।ছোট্ট এই দ্বীপের পুরোটাই খুজে দেখা হয়েছে,তাদের হদিশ মেলেনি।এই কুড়ে ঘরটি সহ অনেক টুকিটাকি জিনিষ তারা পেয়েছে ভাগ্যের সহায়তায়।পানির পাত্র,সাগরের পানি থেকে খাবার পানি তৈরীর কিছু দেশী উপকরন,প্রায় তিন ডজন দেয়শলাই,বালিশ,কাথা,মোমবাতি,রান্নার সরন্জাম,রান্নার কিছু মসলা আরো কত কি।সংসার চালাতে তাদের শুধু মাছ আর পাখী শিকার করেভালই চলছে।আর এ বিষয়ে সরফরাজ এখন ভীষন এক্সপার্ট।রাতের বেলা তার শিকারের নতুন নতুন উদ্ভাবনী কৌশলের লোমহর্ষক গল্প যখন বালিশে গা এলিয়ে দিয়ে সরফরাজ বলতে থাকে কমলা তখন তন্ময় হয়ে শোনে, মনে হয় এতো ভালো আর প্রানবন্তু কাহিনী সে জীবনে আগে কখনোই শোনেনি।
রাইফেলটার গায়ে হাত দিলে কমলার অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়।নলডাঙ্গার যুদ্ধে একাই নয় জনকে খতম করেছে কমলা,তারপর থেকেই সবার নজরে পড়েছে সে।মেজর সাহেব তখন থেকেই অনেক বড় বড় অপারেশনে কমলাকে অন্তরভুক্ত করেছে কমলাও তার বিশ্বাসের প্রতিদান দিয়েছে।প্রতিটা অপরেশনের পর কমলার গুনতি বাড়তে থাকে,এখানে আসার আগ পর্যন্ত তার কাউন্ট ছিল ৪০ অর্থাৎ এ যাবৎ সব মিলে তার শিকারের সংখ্যা ৪০ জন তার মধ্যে ৩৭ জনই পাক সেনা।এক এক জনকে খতম করে আর উচ্চস্বরে নম্বর কাউন্ট করে,এটা তার একটা আলাদা বৈশিষ্ট,আলাদা পরিচয় তৈরী করে দলের মধ্যে।
প্রথম যখন সে ক্যাম্পে আসে তখন তিনজনকে মেরে নদী সাতরে কুলে উঠে মুক্তি বাহিনির হাতে পড়ে। যাদেরকে সে মারে তার মধ্যে একজন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জাদরেল কর্নেল।সে রাতে গানবোটের যার খাস কামরায় কমলাকে বাড়ী থেকে তুলে এনে গনিমতের মাল বলে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল।তাকে কাবু করতে কমলার এতোটুকু বেগ পেতে হয়নি কারন সে ছিল পাড় মাতাল।গার্ড দু'জন একটু ঝামেলা করেছিল কিন্তু হাতের কাছে একটি বড় মুগুর ধরনের অস্ত্র পেয়ে যাওয়াতে তার সামনে আর দাড়াতে পারেনি কুকুর দুটো।পরপর দু'টো ঝুনো নারকেল ভাংগার মত সব্দ হতেই সব শেষ।বাইরে যখন সৈনিকদের দৌড়ে আসার সব্দ শুনলো কমলা তখন কামরার জানালা দিয়ে নদীতে ঝাপ দিল।তার পর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।ট্রেনিং নিয়েছে,সপথ নিয়েছে দেশের জন্যে উৎসর্গ করবে তার প্রান।সেই সপথ থেকে সে একচুলও কখনো নড়বে না তাই তার যতো ক্ষতিই হোক না কেনো।এই সপথ সে ভাংবে না কোন দিন।কমান্ডিং অফিসারের আদেশ যে করেই হোক সে পালন করবে এটা তার দায়িত্ব।যে ভাবেই হোক বন্দিকে সে চট্টগাম ক্যাম্পে পৌছে দেবেই।
রাত হয়েছে,জনমানব শুন্য দ্বীপে সমুদ্রের গর্জন ছাড়া আর কিছুই শোনা যায়না।ছোট্ট দ্বীপটির এক পাশে ঝোপঝাড় এবং কিছু লম্বা লম্বা গাছপালা আছে।এদিকটায় খাড়া খাদ পানির গভীরতা বেশী কোন বালুচর নেই।অন্য তিন পাশে বেলাভূমি এই তিন পাশে বাঁশের মাথায় কাপড় টানানো হয়েছে।কোন মাছ ধরার নৌকা যদি এই নিশান দেখে তাহলে বুঝবে এখানে কেউ আটকা পড়ে আছে তারা উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।সরফরাজের এই বুদ্ধি প্রথমে কমলা মানতে চায়নি ভেবেছিল এর মদ্ধে কোন কু-মতলব আছে,পালানোর ধান্দা কিনা।পরে ভেবে দেখেছে না তেমন কিছু না। তখন থেকেই এই নিশান উড়ছে কিন্তু কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।কোন নৌকাও তাদের নজরে পড়েনি এতোদিনে।সরফরাজ বাইরে বসে একটা ভাঙ্গা হাড়িকে তবলা বানিয়ে গান গাইছিল,দেখে কমলা হাসে,তার সরলতা কমলার ভালো লাগে লোকটার মাঝে কোন টেনশন নেই।এই নির্জন দ্বীপে তারা দু'টি প্রানি আটকে পড়ে আছে এতোদিন,তা বলে কোন ক্ষোভ নেই,চিন্তা নেই সব সময় যেন ফুর্তিতে আছে।মজার মজার গল্প বলে হাসায় আর নিজে প্রান খুলে হাসে।ভালোই চলছে তাদের টুনাটুনির সংসার। কমলা সরফরাজকে খেতে ডাকে বলে এবার থেকে দিনের আলো থাকতে থাকতে রাতের খাবার খেয়ে নিতে হবে।মহারানীর এ আদেশের হেতু জানতে পারি কি?লম্বা কুর্নিশ করে সরফরাজ জিগ্যেস করে।সরফরাজের অঙ্গভঙ্গি দেখে কমলা হেসে খুন।কিছুক্ষন পর হাসি থামিয়ে বলে এখানে যে মোমবাতিগুলো ছিল তা প্রায় শেষের দিকে আর কিছুদিন পর অন্ধকারে থাকতে হবে।টেনশন মাৎ লো ইয়ার........।কমলা শাসন করার ভঙ্গিতে সরফরাজের দিকে তাকায় সরফরাজ ক্ষমা চাওয়ার মত হাত যোড় করে,বুঝেছে বাংলায় বলতে হবে।কমলা হেসে ফেলে। শুধু মাছ আর পাখির মাংস খেয়ে কতদিন বাচা যায় সরফরাজের চাই রুটি আর কমলার চাই ভাত।কিন্তু এভাবেই বেচে থাকতে হচ্ছে।কিছুই করার নেই কিছু জংলী ফল দ্বীপের উত্তর দিকের খাড়ির ধার থেকে কমলা আজ সংগ্রহ করছে,সেগুলো সরফরাজের সামনে এনে রাখে বলে খাও রুটিতো দিতে পারবো না এগুলোই রুটি মনে করে খাও।সরফরাজ কমলার মুখের দিকে তাকায় বলে তুমিতো কিছুই খাওনি এসো তোমাকে খাইয়ে দেই কমলা কাছে সরে আসে মোমবাতির স্নৃগ্ধ আলোয় সপ্নাতুর লাগে সব।সরফরাজ কমলার মুখে তুলে দেয় একটি ফল মৃদুস্বরে বলে ভাত মনে করে খাও।কমলা আবেগ ধরে রাখতে পারে না,চোখে জল চলে আসে।
ছোট বেলায় একবার সারাদিন ভাত না খেয়ে ছিলো কমলা বাবার উপর রাগ করে।বাবা সেদিন খুব বকেছিল দুর্গা প্রতিমার গলার আর শাড়ীর ভাজগুলো সঠিক ভাবে তুলতে পারেনি বলে।সেবার অনেকগুলো দুর্গা প্রতিমার অর্ডার হয়েছিল। বাবা বলেছিল এই পাল বাড়ীর মান সন্মান তোমার জন্য আজ যেতে বসেছে।আজ থেকে তোমার ভাত বন্ধ।নবীন জ্যাঠা দাওয়ায় বসে বললেন শোন যতিন, পাল বাড়ীর মেয়ের দাম লাখ টাকা এবার পারেনি তাতে কি হয়েছে এর পর ঠিকই পারবে।বাবা বললেন না দাদা ও কোন দিনই পারবে না ওর হাত দেখছ তুমি? ওটা কি শিল্পীর হাত? ওটাতো বকসিং খেলা হাত শিল্পীর হাত হতে হবে নরম,মোলায়েম তবেই না সেই হাতে প্রতিমা স্বয়ং ধরা দেবে।পরে বাবাই অনেক সাধাসাধি করে গভীর রাতে কমলাকে ভাত খাওয়ায়।কমলা একটা বড় দীর্ঘস্বাশ ফেলে,সেই সব্দে সরফরাজ কমলার দিকে তাকায় কমলাও সরফরাজের দিকে তাকায় দু'জনেই মুচকি হাসে যেন দু'জনের সুখ-দুঃখ চোখের চাহুনী আর মুচকি হাসিতে ভাগাভাগী করে নেয়।
সেদিন সকালে খাড়ীর দিকটায় মাছ ধরছিল সরফরাজ একটু দুরে ঝোপঝাড়ের মধ্যে কিছু ফলমূল জোগাড়ে ব্যাস্ত ছিল কমলা এমন সময় এলো বিপদ,সরফরাজের চিৎকারে তখন নির্জন দ্বীপ কম্পিত।তার ডান পায়ে কামড় বসিয়েছে কুমিরটা এবং ক্রমাগত গভীর জলে তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।কিছুতেই পা ছাড়াতে পারছেনা সে।কমলা ভয়ংকর আর্তনাদ করে উঠলো এই দৃশ্য দেখে,কি করবে ভেবে পাচ্ছে না।হাতের ছোট ঝুড়িটা ফেলে দিয়ে ঝাপিয়ে নামলো কোমর জলে কিছু না বুঝেই দু'হাত দিয়ে মেছো কুমিরটাকে এক হেচকা টানে জলের উপর তুলে ফেললো।ততক্ষনে কুমিরের মুখ থেকে পা ছুটে গেছে সরফরাজের।কুমির ছেড়ে এবার সরফরাজকে টেনে তুললো ডাঙ্গায়,ভয়ংকর উত্যেজনায় হাত পা কাঁপছিল কমলার।বিপদ কেটে গেছে এবার যেন মুহুর্তে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো কমলা বললো যদি তোমার সত্যি একটা কিছু হয়ে যেত?আহত সরফরাজ কমলাকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দেবার চেষ্টা করে।সরফরাজের পায়ের ক্ষতটা বেশ গভীর।জঙ্গল থেকে লতাগুল্ম এনে বেটে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে।কিন্তু জ্বর খুব বেশী বলে মনে হচ্ছে।বেলা যত পড়ছে জ্বর তত বাড়ছে,সন্ধার দিকে সরফরাজ জ্ঞান হারলো প্রবল জ্বরের কারনে।এদিকে একফাকে কমলা কয়েকটি বুনো আনারস আর লেবু সংগ্রহ করেছে যা জ্বর কমাতে সাহায্য করবে।এখানে তো ডাক্তার বা ওষুধ নেই এগুলোর উপরই ভরসা করতে হবে।সারারাত কমলা সরফরাজের মাথার কাছে বসে জলপট্টি দিতে লাগলো।এক ফোঁটা ঘুম নেই তার চোখে। সকালের দিকে জ্বরটা একটু কম মনে হলো।আজ কমলা নিজে কিছু মাছ ধরেছে।জ্যান্ত মাছের ঝোল খাওয়ালে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে সরফরাজ।হলুদ বেটে ক্ষতস্থানে বান্ডেজ করা হয়েছে।যত্নের কোনো কমতি নেই কমলার,পুরোদস্তুর এক বাঙ্গালী গৃহবধু যেন।
পায়ের ব্যাথাটা কয়েকদিনেই ধীরে ধীরে কমে গেল সরফরাজের।এ কয়দিন কমলার উপর দিয়ে খুব ধকল গেছে।সংসারের সব কাজ একা সামাল দিতে হয়েছে উপরন্তু সরফরাজের গোছল করানো,খাওয়ানো থেকে শুরু করে যাবতীয় কিছু কমলাকে করতে হয়েছে।এখন সরফরাজ পুরোপুরিই সুস্থ। রাত্রে বালুচরে শুয়ে সরফরাজ লাহোরের কোন এক গ্রামের তার ছেলেবেলার গল্প বলছিল আর কমলা সরফরাজের মাথার চুলের মধ্যে আঙ্গুল চালাতে চালাতে মুগ্ধ শ্রতা হয়ে শুনছিল।আকাশে পূর্ণ চাঁদ,মেঘমূক্ত আকাশ,বিস্তির্ন জলরাশী পরিপূর্ণ চারিধার,মৃদুমন্দ বাতাশ সে এক মনমূগ্ধকর পরিবেশ।যখন সে তার বড় ভায়ের বিয়ের মজার কাহিনী শোনাচ্ছিল তখন কমলা ভাবলো সরফরাজকে বলবে সে যেন তার জন্যে এক কৌটা শিঁদুর যোগাড় করে দেয়।গাঢ় লাল রক্তের মত সিঁদুর,তাদের বিয়েতে লাগবে।কমলা কল্পনায় তার আর সরফরাজের বিয়ের কাহিনী কল্পনা করতে করতে আনমনা হয়ে যায়।হারিয়ে যায় কোন অজানায়।সরফরাজ আঙ্গুলের খোচা দিয়ে সম্বিৎ ফেরায়,কমলা লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে।
সকালে চিকচিকে রোদ উঠেছে।নীল সমুদ্র আজ কার জন্যে এতো সেজেছে অবাক হয়ে দেখে কমলা।সরফরাজ উত্তর দিকে সমুদ্রে মাছ ধরছিল। সেখান থেকে উল্লাশ আর চিৎকার করতে করতে ছুটে আসে।পাল তোলা একটা নৌকা দেখা গেছে।কমলাকে দেখানোর চেষ্টা করে। কমলা কেন যেন খুশী হতে পারেনি।নৌকার দৃশ্যটা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।এবার মনে হয় নৌকার আরোহীরা তাদেরকে দেখতে পেয়েছে,দ্বীপের দিকে নৌকা ঘুরিয়েছে।বেশ কাছে এসে পড়েছে নৌকাটা আরোহী তিন জনকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, তিন জন পাকিস্তানী সৈনিক তারা যেন বিদ্ধস্ত,পোষাকগুলো ছেড়া,গায়ে ময়লা,কোন যুদ্ধে পরাজয়ের পর পালিয়ে এসেছে মনে হয়।সরফরাজ আনন্দে আত্মহারা দু'হাত সামনে বাড়িয়ে ছুটে চলেছে নৌকার দিকে-ইয়ে মেরে ভাই মেয়ে ইয়ার.....
হুংকার দিয়ে ওঠে কমলা,পিছন ফিরে তাকায় সরফরাজ।কমলার হাতে তার দিকে তাক করা রাইফেল দেখে একটু ভড়কে যায় প্রথমে, পরক্ষনেই হেসেই লুটোপুটি খায়, প্রশ্নের সুরে বলে তুমি আমাকে গুলি করবে আমি মরে গেলও বিশ্বাষ করবো না।আবার ঘুরে নৌকার দিকে ছুটতে থাকে সে।কমলার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকে।নৌকাটি পাড়ে ভীড়েছে একটা কাঠের সিড়ি নামানো হয়েছে,ওরা সবাই বেশ উল্লোসিত।সরফরাজ হামাগুড়ি দিয়ে সিড়ি বেয়ে উঠছে...কমলার আঙ্গুল চেপে বসেছে রাইফেলের ট্রিগারে, লক্ষ স্থির সরফরাজে মাথা বরাবর । কমলার হৃদয় ভেঙ্গে চৌচির, ট্রিগারে আঙ্গুলের চাপ বাড়তে থাকে।গগণবিদারী সব্দে চারিদিক প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।সরফরাজ ছিটকে পড়ে যায় কাঠের সিড়ি থেকে সাগরের নীল জলে।মুহুর্তে লাল হয়ে যায় আশপাশের জল।কমলা দেখে এক কৌটা নয় হাজার কৌটা সিঁদুর এনেছে তার জন্য সরফরাজ ।আর অভিমান করে ঢেলে দিয়েছে সাগরজলে।বুকের ভীতটা দুমড়-মুচড়ে ওঠে তার।এবারের শিকারের কাউন্ট বেরিয়ে আসে তার গলা দিয়ে অস্ফুট স্বরে.........একচল্লিশ নম্বর।
সমাপ্ত।
https://wwwcreativecanvascrafts.blogspot.com/
https://journalview360.blogspot.com/
https://sites.google.com/view/epicexplorerhub
https://rb.gy/e6u3kp

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন