এম,আমিনূর রহমান
কৈ মাছের প্রান অনেক শক্ত একথা সঠিক তাই বলে ডুবোতেলে ভাঁজার পরও হাড়ির মধ্যে লাফাবে?এটা কেমন কথা।আবিদ তো অবাক,আবার ভয়ও লাগছে খুব।আজ সন্ধায় যখন মুষলধারে বৃষ্টি ঝরছে তখন আড্ডা হচ্ছিল রবীন বাবুর বৈঠক খানায় বিষয় ভূতের উপদ্রব,গল্প শুনতে শুনতে অনেক রাত হয়ে গেল।ফাঁকা গ্রামের পথে একা আসতে খুব ভয় করছিল এখন বাড়ী ঢুকে আবার এই নতুন বিপত্তি।গল্পে একজন বলছিলো কৈ মাছ আর গঁজাল মাছ নাকি ভূতের খাদ্য।আর আমাদের বুয়াটাও হয়েছে তেমন,কোন বোধ-বুদ্ধি নেই।আজ আবিদ বাড়ীতে একা আর আজকেই কেন তার কৈ মাছ ভাঁজি করা লাগবে?মনে মনে রাগ লাগে আবিদের।ঐ আবার হাড়ীর ঢাকনাটা নড়ছে।আবিদ ফোনটা হাতে
নিয়ে মিজান মামাকে ফোন দিল।
-হ্যলো কে?
-মামা আমি আবিদ।
-এতো রাতে?কি হয়েছে কোন সমস্যা?
-মামা বুঝতে পারছি না সমস্যা কিনা কিন্তু আমার খুব ভয় লাগছে,কাছে গিয়ে হাড়ির ঢাকনা খুলতে সাহস হচ্ছে না।হাড়ির মধ্যে ভাঁজা কৈ মাছ লাফালাফি করছে।বিকেল বেলা কৈ মাছ ভাঁজি করে যাবার সময় বুয়া বলে গেছে-ভাই জান হাড়ির ঢাকনাটা কিছু সময় হালকা খোলা থাক একটু ঠান্ডা হলে পুরো ঢেকে দিবেন।আমি বাইরে যাবার সময় ওটা ঢেকে যেতে ভূলে গেছি এখন রাতে এসে দেখি ঢাকনা উপুড় করে ঢাকা, আর হাড়ির মধ্যে মাছ লাফালাফি করছে।
-খবরদার ঢাকনা খুলো না,নিশ্চই একটা ভূত মাছ খেতে ঢুকে হাড়ির মধ্যে আটকে গেছে।
-মামা, একটা লম্বা লাঠি দিয়ে দূর থেকে খোঁচা মেরে ঢাকনাটা খুলে দিলে কেমন হয় যাতে ভূত জানালা দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবে।
-ক্ষেপেছ?এখন ঢাকনা খুলে দিলে কি হবে জানো?প্রথমে হাড়ির ভীতর থেকে ধোঁয়ার কুন্ডলী বের হতে থাকবে তারপর আস্তে আস্তে সেই কুন্ডলি থেকে বেরিয়ে আসবে বিশাল বড়ো এক ভূত।এমন ঝুকি নেয়া যাবে না।আচ্ছা তুমি অপেক্ষা করো আমি আসছি বলেই মিজান মামা ফোন রেখে দিল।কিছুক্ষন পর পর ভূতটার বাইরে বেরোবার খায়েস হচ্ছে নাকি ক্লান্ত হয়ে পড়েছে?একটানা চেষ্টা করছে না সে।
আচ্ছা এমনও তো হতে পারে ভূতের টেলি-প্যাথি ব্যাবহার করে ইতিমধ্যেই হয়তো অন্য ভূতদের খবর দিয়ে ফেলেছে মিজান মামা আসার আগেই যদি তারা পৌছে যায় তবে আর রক্ষে নেই।নিশ্চিৎ ঘাড় মটকাবে।হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে আবিরের।
ঘন্টা খানেক পর দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ।আবিদের জানে পানি এলো,মামা এসেছে।তড়িঘড়ি দরজা খুলেই ভয় পেয়ে গেল সে,পিছিয়ে এলো দু'পা। কে? কে? কে আপনি? ভূতের মত চেহারার একজন লোক কালো আলখেল্লা পরে তার সামনে দাড়িয়ে মাথায় লম্বা চুল মুখভর্তি দাড়ী, হাতে একটি লাঠি আর মুখ লাগানো কাঁচের মাঝারী সাইজের বোয়েম।লোকটি আবিদের প্রশ্নের জবাব দেবার প্রয়োজন বোধ করলো না।
সোজা ঘরের মদ্ধে ঢুকে পড়লো।পিছন পিছন ত্রস্ত পায়ে মিজান মামা ঢুকলেন বললেন রিক্সা মিটাতে দেরি হলো-শোন্ ইনি হলেন এতোদাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ভূতের ওঝা,তার নজর ফাঁকি দিয়ে পালানোর সাধ্য কোন ভূত-পেত্নীর নেই,চল্লিশ হাত মাটির নিচে থাকলেও তার রেহাই নেই। তাইতো তাকে নিয়ে এলাম এবার দেখ্ ঐ ভূতকে কিভাবে কাঁচের বোয়ামে ভরা হয়।
ওঝা এবার খুটিয়ে খুটিয়ে স্থান পর্যবেক্ষন করলেন তারপর পকেট থেকে বের করা একটি ফুলস্কেপ সাদা কাগজে উত্তর দক্ষিন নিশানা লাগিয়ে কিছু রেখা ও সাংকেতিক ধরনের কিছু আকিবুকি করলেন।যোগাসনে বসে চোখ বন্ধ করে দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলী আর কনিষ্ঠার সঙ্গমে ধ্যানস্থ হলেন।
সময় বয়ে চলেছে,টান টান উত্যেজনা, একটু পরেই ভূত ধরে বোয়ামে পুরা হবে।বেচারা ভূতের কপাল খারাপ কৈ মাছ খেতে এসে যাবজ্জীবন কারাবাস নিতে হচ্ছে।দীর্ঘক্ষন পর হুম করে হুংকার দিয়ে ওঝা চোখ খুললেন।বললেন ও ক্ষমা চাইছে বলছে এ এলাকা ছেড়ে চলে যাবে আর কখনোই এদিকের পথ মাড়াবে না।কিন্তু কোন কথায় আর কাজ হবে না তোমাকে বোয়ামে বন্দি করা হবে।
এমন সময় ঘটলো দুর্ঘটনা।একটু কাছে থেকে দেখবে বলে আবিদ দেয়ালের গা ঘেসে ওঝার কাছাকাছি আসতে চাইলো,হাতের ধাক্কা লেগে লম্বা বাসের হাতল লাগানো ঝুল-ঝাড়ুটি গিয়ে পড়লো একে বারেই হাড়ীর কানায়।স্পিন বলের মত হাড়ির ঢাকনাটি ঘুরতে ঘুরতে কয়েক ফুট উপরে উঠে গেল।একটি শোলা-ইঁদুর হাড়ির মধ্য থেকে লাফ দিয়ে মিজান মামার গায়ে গিয়ে পড়েই দিলো ভো-দৌড়।ভূত দেখার মতই চমকে উঠেই মামা জ্ঞান হরালেন।তাকে নিয়েই আবিরের সারা রাত কাটলো।শেষ হলো ভূত নাটক।
সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন